রবিবার, ১১ আগস্ট, ২০২৪

খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি।

 এই আকাশটা দেখেছ?

 সবুজের উপর নীল

পাখি ওড়ে সারি সারি।

পুকুর ধারের বাড়ি

যেন সবুজের মাঝে আড়ি।

তার মাঝে চিলেকোঠায় আমি!

আধুনিক এক প্রাণী।

 

দেখছি অবসন্ন হয়ে শীত বর্ষার

কান্নায় ভিজে।

ভাবছি কত শূণ্যতা, 

মহাকাশ জুড়ে পূর্ণতা।

 

চারিপাশে কেউ নেই,

অচেনা যত মুখ সব।

এরই মাঝে দুই প্রাণী

তুমি আমি বয়সে বাড়ি।

 

অবুঝ কিন্তু আগের মত!

বাস্তবতায় মিশে আছি।


আজকাল ভালোই আছি।

খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি।

ভালোই আছি, ভালোই ছিলে!

ছিলে-রইবে, মহা সুখে।


সত্যি বলছি
আমার সংসারে না জড়িয়ে

তুমি বন্ধু ভালোই করেছ।


Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

শনিবার, ১৭ জুন, ২০২৩

অসহায়ত্ব

চেয়ে দেখা ছাড়া আমার কিচ্ছু করার নেই।
টেনে আঁকড়ে রাখার ক্ষমতা নেই আমার।
আমি অযত্নে গড়া মাতাল খারাপ ছেলেটা।
আমি মিষ্টি মেয়ের রেখে যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত,
আবার গভীর আঁধারে হাতড়ে খোঁজা প্রেম।

আমি তোমার একলা সময়ের সেরা সুখ
যখন স্বপ্নময়ী অনুপ্রেরণায়
জ্বলজ্বল তোমার চোখ।
আমি দুরত্বে সৃষ্টি প্রিয় ইচ্ছা,
কালের বিবর্তনে আদর্শলিপির উপন্যাস।

আমি অনাগত মুহুর্তে পরাজয়ী বিক্রম
অবহেলাভরে সামাজিক ক্রীতদাস।
আমি ছিলাম আমি আছি আমি রইব,
মাঝে মাঝে তোমাদের গল্পে প্রেমদেবতা হয়ে।
#সৃষ্টি


Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০২২

উপলব্ধি সমগ্র - প্রেমদেবতা

০১

দাদার অনেক কথাই আমি বুঝতাম না। শুধু যে কথা বুঝতাম না, তা নয়। অনেক আচরণও খেয়ালি পনা লাগত। যাইহোক, বয়স বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে পারি কিংবা পারছি। 
একটা আচরণের কথা বলি। দাদা যে সিগারেট টানে তার ফিল্টার সব সময় থুতুমাখা ভিজে থাকে। দাদা কখনোই দাদার সিগারেট চাইলে দিতেন না। সরাসরি ফিরিয়ে দিয়ে বলতেন আরেকটা ধরান। কখনো কখনো মানুষ ভেদে বলতেন, আরেকটা ধরান, লাস্টে দিয়েন থাকলে। 
আমার কাছে বিরক্ত লাগত। কিন্তু মজার বিষয় হল, আমি কি করে জানি। আমি জানি কারণ, আমাকে দিতেন। খুব কমই আমি নিতাম তার অর্ধেক টানা সিগারেট। আর আমায় হয়ত কিছু না ভেবেই দিতেন, হয়তো বা অন্তরংগের কারণেও। সেটা তিনিই ভাল জানেন। 
তবে আজ আমি উপলব্ধি পেলাম এক উপায়ে, আমিও সিগারেট অন্ধকারে আজকাল জ্বালাতে গিয়ে খেয়াল করে জিবের ছোয়ায় দেখে নিই ফিল্টার নাকি তামাক। কারণ প্রায়শই আমি সিগারেট ফিল্টার জ্বালিয়ে ফেলি। তাই বোধ হল, দাদা নিশ্চয়ই এটা টেস্ট করার জন্য ফিল্টার ভিজাতেন,আর তার থুতুর মাত্রা ছিল বেশি। তবুও দাদা, আমি চাইনা আপনার এ অভ্যাস দূর হোক। থুতু খাওয়ার অধিকার সবার হয়না। 


Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বাজার - প্রেমদেবতা

নাম তার শাহজাহান মিয়া। পেশায় ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের প্রায় যায়গায় তিনি ব্যবসা করেছেন। আমি যখন থেকে দেখেছি তখন তার ব্যবসা ছিল জুতার। ঢাকার সিদ্দিক বাজারে।কয়েকবার গিয়েছিলাম। যতবারই গিয়েছি ততবারই আলু বাজারে ডাক্তার দেখিয়ে আসার সময় আব্বুর সাথে দেখতে গিয়েছিলাম। আসার সময় তিনি আমাকে নতুন ডিজাইনের জুতা আর ১০০ টাকা দিতেন। এই ১০০ টাকা মানে ৯৬-৯৭ এ অনেক কিছু।

যাইহোক একবার উনার সাথে আমার বাজারে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। এক রিক্সায় উঠার পর, উনার বসার স্টাইল এর কারণে আমার বসার যায়গাই ছিলনা। কোনমতে দাঁড়িয়ে রিক্সা ধরেছিলাম। তার উপর আবার তিনি বাজার যাওয়া অব্দি কয়েকবার রাস্তার লোকজনদের রিক্সা দাড় করিয়ে গল্প জুড়ে দিলেন। মুখে বলছেন তার তাড়া আছে কিন্তু গল্পের আবহ তা বলেনা।

কয়েকদফা তিনি রাস্তায় সালামের উত্তর দিতে দিতে অবশেষে আমরা বাজারে পৌছালাম। বাজারে পৌছে তো তিনি বাজার কিনে না কিছুই। খালি ঘুরে।

আর কয়েকজন দোকানী ডাকছে, কাকা! আবার কেউ কেউ মিয়া ভাই বলে। শাহজাহান মিয়া ঝাড়ির স্বরে বলে - মানুষ হ। এমনে করলে লোকজন ভাল করবেনা। বাড়িতে আজ ঈদ লাগছে, দাম কমায়ে ফ্রেশ দে কিছু।

দোকানীঃ কি কন কাকা, আপনের কাছে কমায়েই রাখি, যে কম দিয়া ২ নং মাল ধরায়ে দেয় হেইডা তো কাকা বুঝেননা। চেইতেন না, ভালা ডাই দিমু।

“ওই কাকারে সপ্তাহে শুকনা বাজার রেডি কর”

কথা গুলো কিন্তু দাঁড়িয়ে হচ্ছেনা, হাঁটার মধ্যে হচ্ছে। আমি শাহজাহান সাহেবের পিছু পিছু এবার সবজির এরিয়াতে ঢুকলাম। তিনি সবজির দিকে, এক বয়স্ক দোকানীর কাছে গিয়ে বসল। কিন্তু কথা শুরু করল পাশের ব্লকের মাছের দোকানের কোন এক দোকানদারের সাথে। জানতে চাইলেন, বাজারে স্পেশাল কোন মাছ আছে আজ।

দোকানী কারো একজনের নাম বলে, শেষে নিজের দোকানের ফ্রেশ মাছের রিকমেন্ড করল। মিয়া সাহেব মুখ ঘুরিয়ে সবজির বুড়াকে বলল, ঘরের তরকারি কি কি আছে।

বুড়া, মিয়া সাহেবকে বুঝাতে শুরু করল, শিমটা তার ঘরের গাছের।

মিয়া সাহেব ঝাড়ির স্বরে বলল, মইরা যাইবি মিছা কথা ছাড়ছ না কেন।

বুড়াঃ তুমি কি কও, বাড়ির বোগলে জলিলের চিপাটায় হইছে।

বলতে বলতে মাপতে শুরু করল।

মিয়া সাহেবঃ তুই আমারে যায়গা চিনাস। তোর বাড়ি ঘর আছে নি। আলা কিপটামি করিস না চুসির পো। পোলায় কামদাম করে আজকাল?

বুড়াঃ কিয়ের কি।

মিয়া সাহেবঃ এক কাম কর, বিয়া করাই দে। নাইলে অন্য বেডির দিকে চোখ দিব। পরে আরেক জ্বালা। আর তুই মাপতাছোস কে?

বুড়াঃ আরে ফ্রেশ জিনিস। চাচীরে কইয়ো আমি দিছি। খাইয়া আলা দাম মন চাইলে দিও।

মিয়া সাহেবঃ এতো দিতাছোস কে? আমার আইটেম বেশি লাগব। ১০ পদ না হইলে তোর মতন ফকিন্নি লাগে। মেহমান আইছে।

বুড়াঃ আমু নি।

মিয়া সাহেবঃ রাতে আইয়া পরিস। আর মাছের বাজার কেমন?

বুড়াঃ চড়া। মাছ আহেনাই আজ।

মিয়া সাহেব বাজার না নিয়ে উঠে পড়লেন। মাছের ব্লকে ঢুকলেন। আর আমার হাতে খালি চটের ব্যাগ। আমি বিরক্ত হচ্ছি। আসলে সে একই জিনিস কয়েক দোকানে গিয়ে খোজ করছে আর না নিয়ে উঠে আসে। প্রায় সবাই প্যাক করা শুরু করছে। একবার ভাবছি একই জিনিস এতো দোকানে বলে বলে আসার মানে কি? আর সবাইকে কুশলাদি জিগ্যেস করছে আর কাউকে কাউকে গালিগালাজ করছে। অবাক করে দিয়ে কেউ কেউ হেসে উড়ে দিচ্ছে। আর ফোর্স মার্কেটিং করছে। যাইহোক সবার প্রথমে মাছ কেনা হল। সে মাছ কিনতে প্রায় ২০ মিনিট কথোপকথন হল, এর মধ্যে অনেকেই মাছ নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মিয়া সাহেব যেই মাছ নিয়ে দর কষাকষি করছেন এটা কেউ কিনছেনা। যদিও কয়েকজন অপেক্ষা করছে কেনার জন্য। আমি অবাক হয়ে দেখলাম রাজবংশী একটুও বিরক্ত হচ্ছেনা। সর্বোচ্চ কম মূল্যে মাছ কিনে তিনি যখন বড় মাছটি নিয়ে এবার সবজির দিকে ঢুকলেন সবার কাছ থেকেই কমিয়ে কমিয়ে একই জিনিস কম মূল্যে নিলেন। সবাই সবারটা জানে। বিষয়টি যেন ওপেন সিক্রেট যেন। প্যাকেট করা জিনিস আবার কারো কারো থেকে কমাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার মিয়া সাহেবকে বেশি ধরিয়েও দিচ্ছেন। সেটা তিনি মেনেও নিচ্ছেন।

মোড়ে এক রিক্সার দিকে তাকাতেই সে হাত তুলে দিয়ে এগিয়ে এসে বাজার তার রিক্সায় তুলে নিল। আমি চুপচাপ দেখলাম আর মিয়া সাহেব মিঠাইওয়ালার সাথে গালিগালাজ বন্ধুত্বের স্বরে কথা বলতে শুরু করল। বাজার রিক্সায় তুলে রিক্সাওয়ালা দাঁড়িয়ে ছিল।

মিয়া সাহেব ঝাড়ি দিয়ে বলল- চুরি করবি নি?

রিক্সাওয়ালা হেসে লজ্জা পাইল।

মিয়া সাহেবঃ যা বাড়িত দিয়া আয়। মায় বইয়া রইছে। মেহমান আসছে। খাড়ায় রইছস কেন? আমি আইতাছি।

রিক্সা ওয়ালা চলে গেল। আমরা আরেকটা রিক্সা ধরে মিঠাই বিনে টাকায় নিয়ে, রওনা দিলাম। আসার সময়, যাওয়ার পথের এক লোক ফের রিক্সা থামিয়ে বলল- কাকা বাইরের লোক আইয়া যদি গেরামে আইসা অশান্তি করে হেইডা কি সহ্য করা যায়। ভদ্রলোক হইলে এক কথা। এইডাই মূল বিষয়। আপনেরা জানেন কি করবেন অহন।

মিয়া সাহেবঃ বাড়িতে মেহমান আইছে রাইতে আইয়া পরিস।

লোকঃ কাকা আকিজ বিড়ি খান তো, তাইনা।

দাদা এবার রিক্সাওয়ালাকে বলল- যা যা।

এই শাহজাহান মিয়া আমার দাদা হন। আমার বাবার বাবা।

আমি বললাম- দাদা তুমি ঘুষ হিসেবে বিচারের জন্য বিড়ি নিবা?

দাদা পকেট থেকে বিদেশি স্টাইলের লাইটার বের করে সানমুন সিগারেট ধরিয়ে বলল- এই ফকিন্নি আমারে কি খাওয়াইবো। রাতে ভাত খাওয়াইয়া বুঝায়ে দিমু। তার বাপেরেও আইতে কইছি।

আমি জানিনা দাদা বিচারের পরবর্তী গল্প। তবে সেদিনের সব তরকারি গুলো বড়মা মানে দাদার মা অনেক মজা করে তার নাত নাতি, পুতিদেরও খাওয়ালো দুপুরে। আর বড়মা দাদাকে বলতেছিল, ব্যাটারা তোরে ভালা মন্দ মিশায়ে দিছে। দেখে আনবিনা। কতগুলা সবজি সাইদের মারে দিয়া দিছি। বউ পোলাদের এটি খাওয়ানের জন্য বাইত আনছোস।

দাদা বলতেছে বড়মাকে- বাজারে বারো কিছিমের মানুষ। দু’একটা চিটারি করেই খায়। আরেকদিন বুইজা আনুম নি।

#সৃষ্টি

#premdevota #perspective

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

সম্পর্ক - প্রেমদেবতা

অল্প করে হল গল্প
স্বল্প সময় বিনিময়।
সৌজন্যে আমন্ত্রণ,
তোমার আমার কানেকশন। 
তোমায় ছুইলে আপন করে
পাহাড় সমান অধিকার জাগে।
তুমি আমার চুপকথার
রাত জাগা রূপকথা।
অনেক অভিমানের মিথ্যে অভিযোগে 
আমি তোমার অজানা ভালবাসা।

( দিনটি ছিল ২০১৯ এর কোন এক অপরাহ্নের একটু খানি উঁকি দেয়া সুখ। আমি বসে ছিলাম আড়াল করে স্বভাবতই। তুমি এলে, ফের চলে গেলে। ব্যস, এটুকুই।)

এরপর, 
এরপর তুমি চললে
শহরতলীর পথের ভীড়ে।
আমি হারাই সেই ভীড়ে,
তোমার ঘ্রাণে পিছু ধরে।
তুমি আসো তুমি যাও,
দোলা দিয়ে আমায় যাও।
হেসে খেলে, ভেসে যাও
আপন করে ভরিয়ে দাও।

(তারপর, মাঝেমধ্যে আমি তোমায় হাসাই কাদাই। তোমার অবাধ্যে স্বপ্ন সাজাই। ভুলে যাই, অধিকার পাই। অধিকারে ভীষণ অবেলায় পালিয়ে বেড়াই।)

এই হল তোমার আমার
না বলা না কথা।
তুমি হও আঁখি মোর,
স্বপ্ন ঘোরের প্রেমিকা।
ভালবেসে যাই, তাই
ভালবেসে সুখ পাই।
অবাক সংসারে হাওয়াই মিঠাই,
প্রতিসন্ধ্যায় তোমার কন্ঠ শুনতে চাই।

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

রবিবার, ২১ জুন, ২০২০

অভিযোগ - সিন্থিয়া আহমাদ



একটা সময়..
কবিতার বিপরীতে কবিতা হতো,
চার লাইনের বিপরীতে দু'লাইন হলেও হতো।
একটা সময়
অনুভূতিরা ঝাপসা হতো না।
ছন্দহীন কথাগুলোও ছন্দে বলার চেষ্টায়
দৌড়ে উঠোন পেরুতো, হাসির আলোড়নে।।
একটা সময়
ঘুম না হওয়া রাতগুলো মুঠোফোনে কেটে যেতো,
নতুন কথা জানতে বারবার ফিরতে ইচ্ছেও হতো।
একটা সময়!!!
বদলে যাওয়া সময় বলে ওঠে,
এখন দিন কাটে ব্যস্ততায়-
কথার মুহূর্তগুলো ভুল ধরার রঙে।
এক জনের কষ্টের বানীতে অন্যজনের
হাসির অনুভূতি প্রকাশে।
প্রযুক্তিকে মনে মনে ধন্যবাদ দিয়ে সব অভিমান
বিষ হয়ে উগলে দিয়ে আনন্দ পাওয়ায়।।

এখন দিন কাটে-
একজনের শবযাত্রার সাদা কাপড়
অন্যজনের হাসিমুখে উপহার পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে।
এখন দিন কাটে-
তিক্ততাকে ফেরত উপহার দিয়ে।।
এখন দিন কাটে-
স্বপ্নচারীনির যুদ্ধের দেবী হয়ে ওঠার গল্প লিখে।
রক্ত আর ক্ষত ছাড়া যার
পিপাসা মেটেনা।।
দেবতা, নারী সবসময়ই শক্তিশালী
বুকে তুলে নেওয়া নারী যখন ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার
তিক্ততা মাথা পেতে নেয়।
জেনো ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া তুমিই শিখাও তখন-
জেনো কোমল স্বপ্নচারীনিকে
তুমিই শিখিয়েছিলে রক্ত ঝরাতে আনন্দ নেয়া।

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""


অভিযুক্ত করার নিপুণ কৌশল আর অধিকার, 
তুমি সঠিকভাবে আয়ত্ত করেছ।
কথার পিঠে উত্তম জবাব,
আর কুয়াশার মত ধরাছোঁয়ার বাইরের
এক নিজস্বতায় আপনাকে সাজিয়েছ,
এক যুগের এই সময়টায়। 
তুমি জানো, দেবতা অসুরের সম্পর্ক, 
তুমি সেই দেবতাকে নিজের আলিংগনে পরাস্ত করে, 
অন্তঃরালে হাসো শয়নকালে।
বরং তুমি জানো দেবতা তোমার এক শব্দে গড়ে ভাংগে।
সেই তৃপ্ততায় বরং তুমি সীমাহীন অহংকারীর আসনে নিরহংকারী।

শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯

প্রেমদেবতা

একের ভেতর দুই জনা,
নাকি দুইয়ে মিলে এক।
জগত সাজিয়ে বিধাতা
খেলিছে এই মিলন মেলা।
তুমি আমি বিপ্রতীপ হয়ে
জ্যামিতিকধারার প্রণয়ে,
আপন হয়ে প্রতিভোরে ত্রিভুজ
নিয়মে আঁকছি প্রেম।


কেউ কি জানি কি সুখে
রাত হয়েছে আপন মোর?
দিনের আলোয় হাসছি আমি
ভালো থাকার সন্ধানে।

মাঝেমাঝে নিও তুমি,
নিও আমার খবর।
ইচ্ছে হলে চিৎকার করে
আঁকড়ে রেখো এই আমারে।

ভাসছি আমি ডুবছি আমি,
ক্রোশের পর ক্রোশ।
আক্রোশটাকে মায়ারথ করে
দিও নরম চুম্বন।
Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯

বিশ্বাসঘাতকতা - প্রেমদেবতা


আমি বিশ্বাস করি বিশ্বাসঘাতকতায়,
মানব জীবনের সবচেয়ে অপছন্দের কাজ,
তবুও কত নিপুনভাবে আমাদের অস্তিত্বে জড়ান।
------------------------------------------------

"আমার ভালোলাগে -
বিশ্বাসঘাতকতার সাথে সংসার সাজাতে।
আমি খেলা করি বিশ্বাসঘাতকতায়।
ভাললাগে দেখতে, মেয়েটি কত বিনিদ্র
আঁধার কাটায় বিশ্বাসঘাতকতায়।
ভাললাগে মেয়েটির নির্বোধ কান্নার আর্তনাদ।

কোন উত্তর নেই বিচ্ছেদের
কোন ভাষা নেই বিশ্বাসঘাতকতায়।
মেয়েটি দিকবিদিক হারায়
অজানা ক্ষোভে।
ভাল লাগে, ভাল লাগার মাঝেও
কাছে টানার অনুভূতি থাকে।

মেয়েটি নিঃশেষ হয়ে যায়
তিলে তিলে, তবুও হাসির মাঝে বাঁচে।
আমার ভাললাগে বিশ্বাসঘাতকতায়
আমি খুঁজেছি প্রিয় তোমাকে।

আমি জিতেছি বিশ্বাসঘাতকতায়
তাই বলি সংগী হবে কি জীবন তরীতে।"

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৯

বিচ্ছিন্ন গল্প - প্রেমদেবতা

০১

রবীন্দ্রনাথ নারীর মন বোঝেনি,
আর তুই বুঝবি কেমনে?
নারীর যত ছলাকলা,
চোখ খুলে দেখবি
নারীর যত রঙ তামাশা
মুখ বুঝে সইবি।
সে কাছে আসতে যাবে-
ইংগিত ইশারায় চোখ নাচাবে
প্রেম প্রেম খেলায় মন ভোলাবে।
পারলে তুই নজরুল হবি
না পারলে নারীর গল্প
রঙিন নেশায় চাপা দিবি।


০২

তোমার মনে আছে, সেই অপরাহ্নের কথা? 
তুমি আমি মিশে গিয়েছিলাম 
সব ভুলে আত্নিক সুরে। 
মনে আছে, তপ্ত দুপুরে 
তুমি ছুয়েছিলে আমার তনুমন!! 
আর আমি প্রমত্তা কীর্তিনাশা হয়ে 
আকড়ে ধরেছিলাম স্বর্গীয় ভালবাসায়। 
মনে আছে কি সেই মার্চ মাসের 
দ্বিচক্রযানের অভিযান? 
তুমি সবটুকু বিশ্বাসে 
আমার শার্টের বুক টেনে ধরেছিলে। 
যেমনটা বাজ পাখি ছু মেরে 
ঊড়ে যায় নীলাম্বরে। 
হ্যা, তুমিই ছিলে 
আর ছিল আমাদের দুচোখ ভরা স্বপ্ন।

০৩.

ঘুম নাই বেশ কয়েকদিন হল।
প্রিয়জনের বাধ্যতামূলক শয্যায়।
কি করে হবে শান্তির ঘুম,
ঘরের হাসি যে পত্রঝরার মত শুকিয়েছে।

০৪.

আমার ভীষণ খারাপ লাগে
যখন তোমার জন্য লেখা
অনাদরে পড়ে থাকে।
আমার খারাপ লাগে,
আজিমপুরের গলিতে পদচিহ্নের
ছাপ গুলো হারাচ্ছে বলে।
খারাপ লাগে, ভুলের পরে
শাসনহারা হয়েছি বলে।
আমার ভীষণ খারাপ লাগে
প্রদীপ জ্বেলে আমায় খোজনা বলে।
খারাপ লাগে খারাপ লাগে
মৃত্যু যন্ত্রণায় বেচে আছি বলে।
খারাপ লাগে, জীবনের বাকে
মিথ্যে আয়োজনে থাকতে।
খারাপ লাগে জড়িয়ে ধরে
চিৎকার করে কাদতে পারিনা বলে।


০৫.

অতঃপর অপরাহ্নের চোখাচোখি
চুপ থেকে আবেশিত অনুভূতি।
অসমাপ্ত বিদায়ে রেখেছি প্রেম
তোমার ওই দৃষ্টিপানে।

০৬.

অরণ্যচারীর ঘর যেমন খোলা আধার
স্বপ্নচারীর চোখ তেমনি চকচকে।
আর নির্লিপ্ত হাসির আবেশ
ঠোট জুড়ে অর্ধচন্দ্রাকার প্রেম হয়ে রয়।

কাছে গেলেই চুম্বকের মত
আঁকড়ে ধরে, ঝোকের মত
চুষে নেবে উষ্ম নরম প্রেম।

০৭.

তোমায় ভালবাসি বলেই তো,
দুরত্ব হলে চিনচিনিয়ে ব্যথা বাড়ে।
কোলাহলে ফুটে ওঠেনা,
নিরবতায় আকড়ে ধরে।
হে শহর তুমি আমার সব
দিয়ে কেড়েছ আবার সবই।
প্রতারক প্রেমের মত
তুমিও করে দিচ্ছ দূর পথগামী।


০৮.

বলোনা কেন তোমার মুখটি
চাঁদের মত স্নিগ্ধ জোছনাকুমারী?
বলোনা কেন আমি অভিশপ্ত তোমায় ছুঁইতে,
বলোনা কেন তারাগুলো তোমার
শরির ছুঁইলে আরো উজ্জ্বলতা পায়,
বলোনা এমন বর্ষণ সন্ধায় কেন,
আমি তোমায় আকুলতায় চাই।
তোমার হাসিতে ঠোটের উষ্মতায়
কেন এমন অস্থিরতা জাগায়।
বলোনা কেন তুমি আমার স্বপ্নঘোর হয়ে
লালপানির ঝারে হাসো পরম ভালবাসায়?
তোমার প্রেমে মত্ত, মত্ত আমার অস্তিত্ব
দিনের পর দিন তোমার শুদ্ধ আবেগে।
আমি তোমার মাতাল প্রেমিক,
তুমি দেবী আমার হৃদয় প্রতিমা।


০৯.

লালপানি আমি তোমায় ভালবাসি
তোমায় বিনে খুব কষ্টে কাটে আমার দিনপঞ্জিকা।
লালপানি তুমি আমার সেরা সুখ দেবীবিনে।
লালপানি তোমায় নিয়ে মরিব হাতে
ধ্রুম্রশলাকা নিয়ে ১৯ ডিসেম্বর ভোর রাতে।

১০.

আমি বিসর্জিত দেবতা।
নতুবা মনুষ্যচরিত কেউ।
স্বপ্নচারিনীর অপ্রিয়,
আবার সাঝপরীর শ্রদ্ধানন্দ কেউ।
আসলে আমি প্রেমদেবীর অহংকার,
স্বরস্বতীর সৃষ্ট সুদখিনার পাপাই।

১১.

প্রেমের জ্বরে তুমি আক্রান্ত
আমি যে ম্যালেরিয়ায়।
তুমি খোঁজ নাপা,
আমি খুঁজি ফ্যালাজিন।
প্রেম বুঝতে তুমি বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড দেখো,
আমি খুঁজি রবি ঠাকুর।

১২.

তুমি ভেবনা তোমায় ভুলে আমার জীবন যাপন।
তুমি আছো অস্তিত্বে মিশে।
তুমি ভেবোনা, তুমি ভাবনাহীন,
তুমি তো আমার ছন্দে বাধা কবিতা।
তুমি ভেবোনা তুমি অতীত,
তুমি সদা জাগ্রত শ্রেষ্ঠ দেবী।
তুমি ভেবোনা আমি সুখে আছি,
আমি সুখী তাও তোমার বিচূত্যে আমি অধীন।
ভালবাসি সুদখিনার কসম
ভালবাসি সাঝপরীর শ্রদ্ধায় তুমি যেমন।

১৩.


এই গল্পটা আমার তোমার,
সংগোপনে কাছে আসার।
কি জানি কোন টানে,
আবেগ এসে তোমার তীরে ভিরে।

এই সময়টা তোমারও চেনা,
কাছে চাইলেও দূরে রাখো।
এই গান এই কবিতা,
তোমার আমায় রচে
অস্বীকৃত প্রেমে।

তুমি বুঝেও না বোঝায় থাকো,
আমি বুঝতে গিয়েও অবুঝ সাজি।
তাই রোজ রাতে তোমার হয়ে
আমি দুরত্বের মাঝে ভাসি।

১৪.

কেউ সুখে নেই,
দরজার ওপাশের
সরল মুখটিও সুখে নেই।

নাটাই ঘুড়ির দুরত্ব নয়,
অনুশাসনের ফলাফলে
কেউ সুখে নেই।

তুমি ঘর ছেড়ে ঘরে গেলে,
আমি ঘর ছেড়ে যন্ত্রণালয়ে গেলাম।
তুমিও অভাবে খোজ আঁকড়ে ভালবাসা।
আমি ধারণ করি তোমায়, নিয়ে যন্ত্রণা।
তুমিও আছো আমিও আছি
বিশ্বাসের যায়গায় দুজনেই কাদি।
তুমি দোয়া দিয়ে যাও আমায়,
আমি আশীর্বাদে রাখি তোমায়।
কিচ্ছু করার নেই তোমার আমার,
উন্মুক্ত হোক ধর্মপথ সবার।

১৫.


আমি একটা প্রেমিকা চাই।
যে আমায় নিয়ে খেলবে,
মাধুরীর চাহুনি আবেগে।

আমি একটা প্রেমিকা চাই,
যে বুক জড়িয়ে গাইবে-
আমিতো তোমার চিরদিনের
হাসি কান্নার সাথী।

আমি এমন এক প্রেমিকা চাই,
যার কথার শ্রোতা হয়ে লিখব কবিতা।
আকাশে জাগবে পূর্নিমা
জোনাকিরা নাচবে বিহ্বলিত হয়ে।
এমন প্রেমিকা চাই,
যার দুরত্ব পথের মাপে না হয়ে
মনের টানে হবে আপনাতে।

১৬.

কন্যা এসো তোমার সাথে
ওপেন্টি বায়োস্কোপ খেলি।
কন্যা তোমার সাথে এসো
ছক বাধা জীবনের বাহিরে ভাবি।
কন্যা এসো তোমার সাথে অতৃপ্ত
প্রতিটা সকালের দুষ্টুমি কাটাই।

১৭.

তোমরা নাহ তুমি, হ্যা তুমি;
আমায় কবি ভেবে আমার কথা গুলোকে
বড্ড অবজ্ঞা করো।
বিশ্বাস করো আমি সাহিত্য জানিনা।
এই বিষয়টা নিয়ে ভাবিনি কভু,
যদি ভাবি তবে শব্দ চয়নে বিষম খাব।
যাকগে ওসব কথা বরং বলি তোমায়
আমি তোমায় সত্যি বলছি,
ভুলের অভিমানী হয়ে কি লাভ লক্ষীটি?
আমি যে বড্ড অসহায় এই একলা রাতে!

তুমি যা চেয়েছ, আমি বুঝিনি
তুমি যে আবদারে নিজের ভেতর পুড়ছ,
আমি তো সেই প্রতিদানের বেলায় ভিখারি।
যদি পারো খানিকটা আমার হয়ে একটু হাসবে?


১৮.

আমি দেখছি তোমার নাভির সৌন্দর্য,
ছুঁয়ে দেখিনি অদ্যম ইচ্ছেতেও।
সাহস নাকি সুযোগের অভাবে,
আজো রহস্যময় সেই মুহুর্ত যে।

১৯.

সমুদ্র, আমি দিনের আলোয়
তোমার কাছে আসিনা।
কেন জানো তো?
জানি, বলবে না।

আমার কাছে থেকে তোমার শুনতে
ভীষণ ভালোলাগা কাজ করে।
আচ্ছা, থাক তবুও বলি।
দিনের আলোয় হাজারো মানুষের কোলাহলে
বিলীন হয় তোমার আহাজারি।

তাই আমি মধ্যরাতের পথচারী
এসেছি তোমার তটে।
তোমার কান্না শুনবো বলে
একান্ত নিভৃতে।

সমুদ্র, তুমি কি দেবী চৌধুরানীর মত
কূল খুঁজে বেড়াও?
হ্যা, তাইতো দেখছি
তুমি আছড়ে পড়ছ তীরে।

অথচ দেখছ না,
তটে বসে আছি আমি দেবতা।
আমি আজ ঘুমাইনি।
আর ঘুমাইলেই কি বা আসে যায়,
স্বপনে তো তোমার সাথে চিঠি লিখিই।

তুমি আর আমি পার্থক্য কোথায়?
হয়ত একটাই, তুমি বিশাল আর আমি ক্ষুদ্র।

২০.

তোমার বুকের অন্তর্বাসের নিচে
যে কষ্ট লুকিয়ে আছে,
আমি সেই কষ্টের সুখ হব।

২১.

পানশালার অন্ধকার আয়োজনে,
প্রতি সাঁঝেরবাতি জ্বলে লালপানির চুমুতে।
সিগারেট হাতের ছেলেটি গুমরে লুকায়,
অপূর্ণতার রিক্ত হস্তে কষ্টলভ্য উম্মাদনায়।

ছেলেটি ভালবাসা চায়,
কারো বুকের আবেগে স্নান করিতে চায়।
সারা দিবা ব্যস্ততায় কাটায়,
সাঁঝের প্রদীপ্ত নিকষায় শুধুই
প্রেম চায়, তৃপ্ত বিশ্বাসে।

২২.

এই সেই বেলা
যার স্নেহনিলয় ভরে ছিল
আমাদের চঞ্চল হৃদয়।
আমি রোজ না হলেও
আসি ফিরে বারবার পাইতে
তোমার ঘ্রাণ।

২৩

কতদিন হলো বলোতো দেখি,
তুমি বলতে পারবেনা...
কারন অপেক্ষার ক্যালেন্ডার
আমি প্রতি রাতে গুনে রাখি।

তুমি ভাল আছো?
কি করছ, ঘুমিয়ে আছ?
নাকি কারো কাঁধে মাথা রেখে
জোছনা স্নান করছ!
আমি খুব ভাল আছি,
তোমার গল্প করে সুখেই আছি।

আমি সত্যিই ভাল আছি,
মনের মাঝে শান্তি অনুভব করি।
মাঝে মাঝে ইন্দ্রানী সেনের গান শুনি,
কখনও সুমনের মত বলে উঠি,
ও গানওয়ালা আরেকটা গান গাও
আমার আর কোথাও যাবার নেই-
কিচ্ছু করার নেই...

২৪.

এমনি করে কেউ কাছে এসে
কপালে প্রেম একেঁ,
বিষণ্ণতায় ডুবিয়ে
আঁধারের ঘুম হয় বিলীন।


এমনি করে বিশ্বাসটা ভেঙ্গেচূড়ে
হয়ত আমারই মত ভুলের ফাঁদে
নিষ্পাপের আঁড়ালে নষ্ট করে জীবন।

তোর বাড়ির পথে যত কবিতা
তোর ঠিকানায় ফেরত আসা---
আমায় বুঝাতে, ভুল ভাঙ্গাতে
কত কথা স্তবদ্ধতায় রয় পড়ে।

যেদিন ভুল ভাঙবে বুঝতে শিখবে
আবেগ বাস্তবতার কিঞ্চিৎ ব্যথা।
সেদিন আমি হব মহাপুরুষ তোমার
কান্নার জলের চোখের পাপড়ির আচঁড়ে।
ক্যানভাসে রাখবেনা ধূলোর ভয়ে
বুক পাঁজরের ভাঁজে আঁকড়ে নিবে
স্তব্ধতার দিক্বিদিক চিৎকারে।

২৫.

জানালার পর্দাটা যখন দমকা হাওয়ায়
উড়ে যায় লাজুকতায়,
ফাঁক গলে সোনালী আলোয়
তোমার ঘুমন্ত রহস্যময়ী মুখটা
নিষ্পাপের ছোঁয়ায় মায়াবী হয়ে উঠে।


আমি কল্পনার সব খেলায়
উত্তেজিত হয়ে যাই
তোমাকে কাছে পাবার অহংকারে।

আমি স্পর্শে প্রেমের আবির মেখে যাই,
তোমার দীপ্তিময় চোখের পাতায়।
ছুঁয়ে যাই তোমার কপল হয়ে,
ঠোঁটের নরম তিলে।

তুমি নড়ে চড়ে ধীরে চোখে
স্থির দৃষ্টিতে তাকাও মোর পানে।
আমি কাছে থেকে কাছে এসে
নাকে নাক ছুঁয়ে বলছি তোমায়
তোমাকে ভালোবাসতে চাই...


Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ছেলেটি - প্রেমদেবতা

ছেলেটি কেমন যেন, তাইনা স্রোতসিনী?
কেমন?
কেমন যেন অদ্ভুত! ঠিক অদ্ভুত না,
একটু গোছানো, অনেকটা অগোছানো।
দেখতে মোটেও সুন্দর না।
কেমন যেন বাচ্চা কাচ্চা ভাব।


তো তাতে তোমার কি সমস্যা রাণী?
আমার কোন সমস্যা নেই তো।
তবে ওই ছেলেকে নিয়ে এতো ভাবনা কেন?


ভাবনা? হা হা... হাসালি মোরে।
তাই বুঝি? তবে কে খোঁচাচ্ছে,
খুঁটে খুঁটে কে দেখছে ছেলেটাকে?


দেখছি কইরে? চোখের সামনে এলো তাই বললাম।


এই স্রোতসিনী, একটা বিষয় খেয়াল করেছিস?
কি বলো?
ছেলেটার চোখ দেখেছিস?
কোন ছেলের?
কোন ছেলে আবার, তুই মনে হয় বুঝিসনি?
বুঝেছি, তবে পরে আবার পল্টি মারিও না।
স্বীকার করো, তুমি খুঁটে খুঁটে দেখছ!


হ্যাঁ, দেখছি তো কি অন্যায়টা করেছি?
অন্যায় করনি, অন্যায়ের কিছু নেই।
এই তুই রাখতো তোর গল্পের বইটা-
দেখ, ছেলেটা দেখতে বাচ্চা হলেও,
চোখটা কিন্তু সুন্দর।


দাঁড়াও দেখছি।
হুম সুন্দর। আচ্ছা রাণীপু,
তুমি কি প্রেমে পড়েছ?
প্রেম? সে আবার কি?
আমি বাবা প্রেমটেমের ধার দিয়ে যাইনা।
প্রেম মানেই যন্ত্রণা...


তাই তো টের পাচ্ছি
যন্ত্রণা দিয়ে মারছ আমায়।
হ্যাঁ, তোকে তো ভালবাসিই।
এই এই বিষয়টা দেখ দেখ!


হুম, হাসিটা ও কিন্তু চোখের সাথে যায়।
তুমি কি কাজ ফেলে এলবাম নিয়ে বসলে।
হুম, ফেসবুক মনে করে দিল তাই,
ক্লিকের পর ক্লিক করে যাচ্ছি।
সময় তো কাটেনা।
সময় কাটানোর ভাল উপায় এছাড়া আর কি আছে?


ছেলেটা কে আপু?
মাঝে মধ্যেই দেখি তুমি তার কথা বলো।


ওর নাম!!! ------------- ঘুম।
মানে ?
ঘুমিয়ে আছে তো তাই।


তোমার এই ইয়ার্কি করাটা গেলো না।
হুম সেটাই।
এ আবার কেমন কথা, হুম সেটাই-
ভীষণ রাগ হয় তোমার এই শব্দ শুনলে।
আচ্ছা, আর বলবোনা।


আবার?
কি?
উদাসিনী ভাব আনলে কেন?
এমনিতেই।
তোমার কি হয়েছে বলোতো?
এই ভাল এই খারাপ।
যাকগে, ছেলেটার ছবি দেখছিলে।
কি কি দেখছো আর?


বিশেষ কিছু না, খুব বেশি কিছু নেইতো
অর্থহীন কিছু কথা আর বিরক্তিকর স্মৃতিছাড়া।
স্মৃতি? ঠিক বুঝলাম না।
বুঝবি কিরে, আমি নিজেই তো বুঝে ওঠার আগে
ছেলেটা মিথ্যে বলে চলে গেল।


চলে গেলো মানে? কে সে?
সে কে আমি নিজেও জানিনা।
তবে কই গেছে আমি জানি।
যেখানে একদিন আমিও যাব।
এক চাদরে ঘুমিয়ে পরতে।

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

বুঝতে পারছো? - প্রেমদেবতা

আমি একটু একটু করে তোমার হচ্ছি!
তা কি তুমি বুঝো?
বুঝতে পারো, আমার রাত যে
ইদানীং ছোট হয়ে আসছে?
বুঝতে পারো, আমি যে কথা বলতে শিখেছি?
কে শেখালো অমন ভাষা,
যা ব্যাকরণ ভেঙ্গে চুড়ে নিয়ম করে
শুধু তোমার প্রশংসায় উম্মাদ।
বুঝতে পারো, এই যে প্রতিক্ষা
ভোর হবার পরে ঘুমের স্বপ্ন।


আজকাল তুমিও যে আমার
শিরা উপশিরায় যন্ত্রণা হচ্ছ, বুঝতে পারো?
নাকি হেয়ালির ভাষায় মুচকি হাসো?
নাকি তার অন্তঃরালে তুমিও
বীজ বপণ করেছ আমায় পাইতে!!


নাকি, স্বপ্ন তুমিও দেখছো, রূপকথার মত-
কোন এক সুদর্শন এসে ঘোড়ায় চড়িয়ে
ছুটে যাচ্ছে তেপান্তর পেরিয়ে ঘন অরণ্যে।
তারপর খোলা আকাশের নিচে সন্ধ্যে আসে-
আগুন জ্বালিয়ে পাশাপাশি বসে
আকাশের তারার সামনে হিম শীতল
বাতাসে চুমুর উষ্ণতায় ভালোবাসার জীবন।


তুমি কি কখনো এমন আদরে ভেবেছ আমায়!!!
নাকি এই রাত গুলো একটা দুঃস্বপ্ন হয়ে
দিনমজুরের পাওনা দেনায় বিলীন হবে?


নাকি, স্বপ্ন দেখতে নেই তুমুল ভালবাসায়,
অন্তঃত আমার মত দেবতার।
Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮

আমার আজকাল - প্রেমদেবতা

আমার আজকাল কাব্য আসেনা,
কে জানে কোন অভাবে মিলেছে জীবন।
আমার আজকাল নীতিকথায় মন ভরেনা,
কে জানে কোন কারণে পথভ্রষ্ট মন।


আমার ইদানীং রাত কাটেনা,
দিনের আলোয় সময়ও ফুরায়না।
আমি ইদানীং সম্পর্ক ভুলেছি
আপনাতে ডুবেছি নিষিদ্ধ পানিতে।

আমি যাচ্ছেতাই জীবন কাটাচ্ছি,
বেখেয়ালি হয়ে পথ ধরেছি।
নিষিদ্ধ পানির অনুভূতিতে
জাগতিক মায়াজাল ভুলতে শিখেছি।
Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

খুব দোষের হত কি? - প্রেমদেবতা

যে সময়টা আমার সাথে
গোধূলির ক্যানভাসে চায়ের চুমুকে ছিল?
সে সময়টা আমাকে এড়িয়ে অন্যের হয় কেন?


এমনটা হলে কি খুব ক্ষতি ছিল,
জোছনা স্নানে আলিঙ্গনে জীবনের গল্প হত।
আমি সারাদিনের পরিশ্রমের ভেজা শার্টের
বুক পকেটে তোমার জন্য কাজল নিয়ে ফিরতাম।
আর তুমি সকাল হতে সন্ধ্যে অবধি ঘরের কাজে
ব্যস্ত হয়ে মেজাজ খারাপ অনুভূতি জমিয়ে রাখতে।


যখন কলিংবেল বাজতো, দৌড়ে ছুটে এসে দরজা খুলতে
আর আমি ক্লান্ত উচ্ছাসিত ঠোঁটে তোমার কোমর ছুঁয়ে
আমার থুঁতনিতে তোমার কপাল পরশে নিতাম।
মাঝে মাঝে তোমার সিঁথির রেখা দেখে বলতাম
এই পথ যদি শেষ না হয়, তবে কেমন হত তুমি বলতো?
অথবা তোমার মুখটি তুলে চোখের পাতায় চুমু দিয়ে বলতাম,
এই নে পাগলিনী, তোর চোখ দুটি কাজল জড়িয়ে নে,
নয়তো কারো নজর পড়ে যাবে।


তুমি বলতে, দিলে তো সারাদিনের অশান্তি-
এক কথায় দূর করে দিয়ে।
কি করে এমন মন্ত্র জানো?


আমি মুচকি হেসে বলতাম,
সোনার কাঠি, রূপোর কাঠির সন্ধান তো
রাজকন্যা জয়ের আগেই তেপান্তরের মাঠ ঘুরে পেয়েছি।


তুমি টেনে নিয়ে দরজা বন্ধের ছলে
আরেকবার তোমার ঘ্রাণে বুঝিয়ে দিতে
এই রাত শেষ হবার নয় আজ।


গোছলে শেষে যখন ভাত নিয়ে বসতে তুমি,
তুমি ঠিক ঠিক ভাত জুরিয়ে হাসির আহ্ববানে
পাবদা মাছের ঝোল পাতে তুলে দিতে।
মাছ তোমার পছন্দ না!
তবুও মাছ রান্নাটা শিখেছ অবাক টানে।
বলো এমনটা হলে কি খুব দোষের সংসার হত?
হতো কি?


আচ্ছা এমনটাও তো হতে পারতো,
আমি তোমায় ভাত খাইয়ে দিতাম।
তারপর একসাথে থালাবাসন ধুতে চাইতাম।
তুমি ধমকের সুরে, আমায় বারণ করতে।
আর আমি বাধ্য হয়ে তোমার পাশে বিচ্ছিন্ন আলাপনে থাকতাম।
তারপর, তোমার বিছানায় নরম সাদা চাদরে
আমি অপেক্ষা করতাম, ব্যাথানাশক মলম নিয়ে।
তোমার তো মাথা ব্যাথার অসুখটা আছে-
তাই রোজরাতে তোমার ঘুমপরী আসা অবধি
আমি মালিশ করতাম।
তুমি ঘুমিয়ে পরেছ ভেবে ঢুলুঢলু চোখে
তোমার পাশটায় মাথা এলিয়ে দিতাম।
ঠিক মধ্যরাতে ফিসফিসিয়ে আমার উপর ঝুঁকে
তুমি এমটাও তো বলতে পারতে-
তুমি কি তোমার হাসনাহেনার ঘ্রাণ পাচ্ছনা?
আরো বলতে- এই, তোমার রানী আজ তোমার হতে চাইছে।
আমি সম্মোহিত হয়ে তোমার কাছে নিজেকে হারিয়ে দিতাম।
বলো এমনটা হলে কি খুব দোষের সংসার হত?
হতো কি?
Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

শুক্রবার, ১৩ জুলাই, ২০১৮

আমাদের গল্প - প্রেমদেবতা


তুমি আমার এক জীবনের সব কিছু।
তোমাকে নিয়ে ভাবনার ঘরে অন্তহীন রহস্য।
তোমায় না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকে
বুঝিতে পারি কতটা নিখাদ তোমায় ভালবাসি।
আবার দিনে দুবার করে পানশালার অন্ধকারে
চাপা কান্নার সাথে বর্ষণের আওয়াজে হেসেও ভালবাসি।
অনেকেই জানে বৃষ্টিজল আমার অপছন্দ,
আসলেই কি তাই স্বরস্বতী?
কিভাবে বৃষ্টিজল আমার অপছন্দ হতে পারে?
কোন এক সাঁঝের আকাশে ঝুম বৃষ্টিধারায়
তুমি আমি সিক্ত হয়েছি যে গভীর আবেগে।


আমি বারবার হেরে গিয়ে তোমায় কাঁদিয়েছি,
অনেক অপ্রিয় বৈশিষ্ট্যময় কাজের মাধ্যমে
তোমাকে কষ্ট দিয়ে আসছি দিনের পর দিন।

এই ভোরটা খুব আনমনে ঠুকরে কেঁদে হেসেছি,
বেলকুনি দিয়ে শহরটা দেখছি।
আমি তুমি একই শহরে একই অভিনয়ে
দিনের পর রাত হয়ে মেঘের মত ভেসে যাচ্ছি।

স্বরস্বতী, অনেক দেয়া কথার বরখেলাপে অভিযুক্ত আমি,
কি করব বলো, নিজেকে আগলে রাখতে জানিনা যে আমি।

আমি তুমি ভালো আছি,
ভালো থাকার কথা বলি।
এ অধ্যায়ের গল্প কোন একদিন
বৃদ্ধকালে শীতের বিকেলে মাদুর পেতে
তোমার নাতিনাতনিকে
পিঠা খাওয়ানোর ছলে বলিবে,
ঠিক রূপকথা বলে নিজের অজান্তে ছলছল চোখে।


Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

বুধবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮

মন খারাপ হয় - প্রেমদেবতা

তুমি ভাবছ ওপাড়ে বসে
কত সহজেই ভুলে আছি তোমায়।
ভাবছ, এতদিনের স্মৃতিকথা ভুলে
কোন সুখে যাচ্ছে দিনকাল আমার।
আর অভিমানে চোখ ফুলাচ্ছ
আড়শির সামনে গভীর রাতে।

তুমি কি দেখেছ আকাশটা চিৎকার করছে?
দেখেছ কি রাতের রাজপথ ভিজেছে
আর সোডিয়াম আলো মুখ থুবড়েছে
আমার দুপাশে অসুখেরা সংসারী হচ্ছে।
কতটা অসহায় হয়েছে আমাদের ভালবাসা
সামাজিক আয়োজনে দুরত্ব হাসছে তামাশার ভাড়ে।

তুমি ব্যস্ততা ঘিরে ভুলের থাকার অভিমানে
দক্ষতার সাথে অভিনয় করে যাচ্ছ।
আমি বিদীর্ণ চিৎকারে বলছি
ভালবাসি তোমায় কারণেঅকারণে।

আমারো তো মন খারাপ হয়,
তোমায় ভুলে থাকার অভিনয়ে মাততে।
মন খারাপ হয় তোমাকে সরিয়ে রাখতে।


Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

তুমি কি যন্ত্রণা - প্রেমদেবতা

তুমি কি যন্ত্রণা,
নাকি শুভ্রতার মেঘের ভেলা?
কি জানি, আমি জানিনা
আজকাল তাও বুঝিনা।

তুমি কি সিগারেটের মতই?
যা যেনে শুনে আমাকে পোড়াও!
তুমি কেমন জানি মাছরাঙ্গা পাখি
চুপটি করে থাকো, ক্ষনিকবাদে উধাও!

আমার মন খারাপতো থাকেনা,
তবুও মনের উপর আমার নেই প্রভাব।
তুমি আমি দুরত্বে ভাসি
ভাসতে ভাসতে শুকতারা হয়ে ঝলসে পরছি।

হয়ত তুমি হয়ত আমি, পাল্টে গেছি
তবুও বালিশ প্রতিদিন রোদে রাখি।
এই স্থান রয়েছে; রয়েছে ভালবাসা,
তবুও ভুলে থাকার নাটকে শ্রেষ্ঠাংশে আমরা।

তুমি হয়ত একটু বদলেছ
নাকি সময় বদলেছে সামাজিক প্রয়োজনে?
এ কি সেই তুমি আশ্রয় খুঁজে পেয়েছ
তোমার নরম গাল যতনে রাখতে তার বুকে?

আমি পথের ভুলে বারবার আসি,
তোমার পথের খোঁজে; সিগারেট হয় সঙ্গী।
Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮

সামাজিক অনুশাসন - প্রেমদেবতা



যত্নে রাখা প্রিয় মুখ অন্তঃস্থলে,
রাত জেগে হেমন্তর গাওয়া-
'আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা'
অধীর প্রতিক্ষায় আলিঙ্গন খোঁজে।


যে সুখটা আমার ছিল,
সে সুখটা সময় ঠিক ঠিক-
প্রতারিত করেছে কৌশলে।

এখন সেই সময় তোমায় করেছে
পতির বক্ষে অন্য আদরে,
তুমি হাসো তার হয়ে,
আর সময় হাসে
আমায় সামনে রেখে।

তুমি মেয়ে আজ গল্প শোন
কার কাঁধে মাথা রেখে?
অথচ আমার কাঁধে শুরুটা হয়েছে
গল্পের আবেগীয় মুহুর্ত অনেক যতনে।

একই শহরে,
তোমার সংসার সব ভবিষ্যৎ ঘিরে।
একই শহরে,
আমার সংসার মদ্যপানের টেবিল ঘিরে।



Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

উড়ো কথা - প্রেমদেবতা

মৃদ আলোর খোপটির ঘরে
টেবিল সাজিয়েছি লালপানিতে।
চুমুকে চুমুকে যন্ত্রণাবোধ
করছে আমায় বেহুশ।
কি আসে যায় বালিকা তোমার?
এমনি কেটে যাক জীবন
আক্ষেপ নিয়েছি করে আপন।
আমার কবিতার ভাষা উবে গেছে।
সম্পর্কগুলো ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
যে তুমি এ চোখে গভীরতা খুঁজে নিতে,
সে তুমি কার বুকে বিশালত্ব খুঁজে নিচ্ছ?
আমি একা, একাকিত্ব খুঁজে নিয়েছি
একা থাকার অভ্যাস লালপানিতে ডুবে দিয়েছি।

আমার প্রেম লালপানি,
অকল্পনীয় বাকি সব।
সব যাবে একদিন ছেড়ে,
শুধু লালপানি আমার রবে।


এপারওপার তুমি আমি,
আত্নিক আবেগে বাষ্পে ভাসি।
নয়ন আড়ালে পথচলা
ভালবাসি দেবী এইটুকুই সত্যি।



এই যে শোন।
আমাকে বলছেন?
জ্বি।
বলুন।
আপনি কি দেবী?
হাহাহা....
হাসছেন কেন?
আমি দেবী! হুম...
যে দেবতা প্রতি সাঁঝে,
লালপানির চুমুকে আমায় খোঁজে।



ভালবাসা আসলেই বর্নিল,
আর ভালবাসার প্রতিকৃতি
হিসেবে তাইতো সৃষ্টিকর্তা
রুপ দিয়েছেন নারীকুল।



আর এই বিচিত্র সৃষ্টি নারী-
তাইতো মাঝেমধ্যে এমন রুপে আসে,
যখন আমি বিভ্রম হয়ে যাই -
বিচিত্র অনুভূতির লাস্যময়তায়।




আকাশে আজ আকাশী রঙ নেই
ধূসর হয়েছে মেঘের ভারে।
বাহিরে আজ কুয়াসা নেই
ঘোলাটে হয়েছে বৃষ্টিজলে।
এ বর্ষণ নিদারুণ অভিমান
একলা করে যায় সব কেড়ে আমায়।
তোমার আমার লেপ্টে থাকা স্নান
কালের পরিবর্তনে ভুলে থাকার গান।



আমি নিরন্তর প্রেমিক,
ভালবাসায় সিক্ত ব্যর্থ।
সংসার আমার সব নিয়ে,
শুধু বেলা শেষে শুন্যতার যোগফল হাতে।



সেদিন সন্ধ্যা আকাশে
জেগে উঠেছিল
উজ্বল দুটি তারা।
কুয়াশার রহস্য ভেঙ্গে,
এই ভুবন ডাঙ্গায়
সুখের পরশ দিয়েছিল-
এক আলিঙ্গনের চুমুতে।



মাতাল চোখে মাতাল সুরে
ডাকব কাছে বুক পাঁজরে।
তুমি এসো এমন করে ছুটে
কোলাহলের চোখ ফাঁকি দিয়ে।
এমন বিশ্বাসের সূতোয়
হাজার বছরের রাত আসুক
ফিরে বারবার।

দিন যায় রাত কাটে,
কেউ কারো জন্য পরে থাকেনা।
আমি ভাল আছি,
ভাল থাকতে হয় আমাদের।



লালপানির চুমুকে চুমুকে জর্জরিত
তোমার ওষ্ঠের চেনা স্বাদ।
আমি সজীব হয়ে যাই তোমায় ভেবে,
যেমনটি বলে লোকে,
দুধের স্বাদ গোলে মিটে।
প্রিয়ংবদা বলছি তোমায়,
তোমার ভালবাসার বিকল্পরূপ কেহ নাই।



প্রিয়ংবদা,
তোমার বিশেষ ছোঁয়া আমায় অশ্লীল করেনা।
বরং ভয় পেতে শুরু করি,
কবে থেকে স্তব্ধ হয়ে যাব
আমি বিরহী আবেগে।
আমি মিলিয়ে যাই, অনুপম উপহাসে।
যা তুমি নও, সামাজিক অনুশাসনসংবলিত নীতিগল্প।



এই পৃথিবীর পরিচিতারা কেবলই হেসে খেলে গেলো,
অভিনয়ে খুব কাছাকাছি এসে স্বপন দেখিয়ে গেল।
কিন্তু কেউ বুকের পাজর চেপে বললো না,
প্রেম তুমি আমার প্রেম দেবতা।




আজকাল আমি আমার হইয়া থাকতে চাই,
বিচূত্য হইব মায়াবল আত্না হতে।
আজকাল অতীতের গল্পের মত
তোমার মনের সেরা পুরুষ
হইয়া থাকিতে ইচ্ছে করেনা।
আজকাল সব অপ্রাপ্তি গোচরে আসেনা।
প্রাপ্তি যখন শূন্যতা দিয়েছে অনেক যতনে।
আজকাল আমি ভাল আছি,
আমার মত করেই ইচ্ছে সম্রাট হয়ে।



কথা দিলাম তোমারে স্বাধিকার দিব,
তোমাতে তোমার ধরা হবে আপনার ইচ্ছায়।
আমি শুধু মাঝেমধ্যে মুসাফির হইব
লালপানির যন্ত্রালয় ছেড়ে নীরব কান্নায়।
এই সময় যাবে কেটে,
নতুন আলিঙ্গনকারীর আদরে।
তুমি বদলাবে তুমি কঠোর হবে,
আমি তখনো মাতাল চোখে
আগেরই মত প্রেম ছড়াব!
প্রিয় দেবীর পূজক হইয়া
পরীর ডানায় ভর করিয়া।
অবুঝ বালিকাবধূ কে জানে
কার হইয়া কই সংসার সাজাবে।


তোমায় কখন ভালোলাগে?
যখন তুমি অনুরণন হইয়া
আমার অক্ষিকোটরে ছলছল
দৃষ্টি নিয়ে আমায় অভিযুক্ত করো,
তোমার একেলা অপক্ষার দোহাইয়ে।


প্রাত্যহিক লালপানির অভিযোগ
কোন অপ্রাপ্তি আমায় স্থির করে দেয়।
আমি নিশ্চুপ অভিযোগহীন প্রেমিক,
কাঁদতে জানিনা স্থির দৃষ্টির একজন।
স্বরস্বতীর দেবতা।



কে যেন কাদে লুকিয়ে
স্বপ্ন ভাঙা সুখ হারিয়ে।
আকাশটা ছিল শরতের
বর্ষণ কেন তবে অবেলায়?
কে যেন চায় বাচতে,
আঁকড়ে ধরে পিছুটানে।
আকাশ ভরা সংসার
সেই আকাশ কেন তবে শুন্যতার।



তুমি আমি বোধহয় একই তিথিতে জন্মেছি!
যে কারণে হারানোর শোক কাছাকাছি সময়ে।
অথবা তোমার আমার চাওয়া হয়ত একই,
ভুল সময়টা সঠিকভাবে আমাদের বাঁক করে দেয়।
আবার হয়ত প্রকৃতি জেতার নেশায়,
আমাদের নিয়ে একটু খেলছে তামাশার ভাড়ে।
নতুবা তৃতীয়পক্ষ অভিশাপের যাদুকরী হয়েছে,
তাই আমার সাথে জড়ানো তুমি, অনুশাসনে শিকলবদ্ধ।


আমিও অবুঝ প্রেম চাই
অগণিত আবেগে ভুল করে।
আরেকবার অবুঝ হতে চাই
পুরোন প্রেমে মাতাল হইতে অপরাজিতা।


মেয়ে তোমায় ছুঁয়েছি গভীরতায়,
যখন তুমি সম্মোহিত হয়েছ,
আমার অক্ষিপটে।
তোমায় ছুঁয়েছি গোপন ঘরে,
যেখানে স্বপ্নলোক অনেক কিছু ভাবে।


নিশির কথা আবছা লাগে।
প্রভাতি যখন কাছে আসে।
নিশির কাছে লজ্জা ভুলি,
দিবার আলোয় গুটিয়েছি।

অবশেষে আপন বিছানায় শরির এলিয়ে দেয়ার পর্ব,
পিছু ফেরা দিনগুলি স্বপ্নময় রহস্যময়।
রাতের লালপানির ঢুলুঢুলু আমেজে
সবটুকুই মেনে নেয়ার চরম বাস্তবতা।

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

মনে রেখো - প্রেমদেবতা


শুধু মনে রেখো,
একদিন এই আত্না দুই
মিশে যাবে, একাকার হবে
দূরত্বের ক্রোশেও অনুভবে ভাসবে।


ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে-
হব আপন তোমার বিশ্বাসে আশ্বাসে।
এই সব রঙ্গিন আবেগ,
রইবে মোর কাছে।

যেদিন সত্যিকারের প্রেম
তোমায় ছুঁয়ে যাবে-
সেদিন আমার কথা ভাবতেই
ঠোঁট দুটি অজান্তে প্রসারিত হবে।
অন্তর তলে বিশালতার অরণ্য খুঁজে পাবে।

থেমে যাবে সব কোলাহল,
ঝাপ্সা হবে আমি বিনে সব।
শুনতে পাবে হৃদস্পন্দন
বিদ্যুৎ স্পস্ট হবে আমার ছোঁয়াতে।

চোখ বুঝে সুখ পাবে,
ঘুমের মাঝে স্বপ্নরা চুমু দিবে।
হৃদ মাঝে আমি হব তোমার ঘর।
সেই ঘরের দেবী হয়ে,
পরীরা এসে মেলা বসাবে-
তোমায় পুজিঁবে প্রেম পাইতে।

শুধু মনে রেখো,
এই দেবতা রহস্যতায় ঘেরা,
কখনো চেনা আবার কখনো অচেনা!
অল্প আবেগে ভাসেনা
হুট করেই কাছে আসেনা।
স্নেহের ভালবাসার হাত যেদিন
লক্ষ্মী ছেড়ে চলে যাবে-
দেবতার শোকে চুরমার হবে
তোমার আত্না-মন।

শুধু মনে রেখো,
একদিন এই আত্না দুই
মিশে যাবে, একাকার হবে
দূরত্বের ক্রোশেও অনুভবে ভাসবে।

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

স্মৃতি - প্রেমদেবতা

কতদিন হল কলা ভবনের সিঁড়িটা
অভিমানে খালি পরে আছে।
মৃদু স্বরে নজরুল গীতি আর কেউ
আকুল প্রেমে গেয়ে শোনায় না।

যায়গাটা বড্ড অভিমানে আছে,
সিগারেটের ধোয়া আর ফিল্টারের
ছাইয়ের স্তুপে কারো বকুনিঝকুনি নেই বলে।

শাসনের পালাক্রমে কেউ এখন
শক্ত হাতে আঙুল এর ফাঁকে ধরেনা।
হাজারটা ভুল ধরিয়ে দিয়ে
অপরাধীর সাজায় আপন করে নিয়ে,
কাধে মাথা রেখে কেউ বলেনা, তুমি আমার।

কলা ভবনের সিঁড়িপথ অপেক্ষায় থাকে
প্রিয় চেনা মুখ আবার কবে মুখোমুখি হবে।

Warning advisory: ""Never believe in my eyes and stay away from my smile...""

খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি।

 এই আকাশটা দেখেছ?  সবুজের উপর নীল পাখি ওড়ে সারি সারি। পুকুর ধারের বাড়ি যেন সবুজের মাঝে আড়ি। তার মাঝে চিলেকোঠায় আমি! আধুনিক এক প্রাণী।   দেখছ...